রূপশালী ধান, বেতনা নদী, ট্রামের টুং-টাং ও মনোজ মিত্র

লিখেছেন:সুদেব সিংহ


 

কপোতক্ষ নদ, ধুলিহর গ্রাম, ক্ষেত্রজ্ঞ বাঞ্ছা কাপালি, বেলগাছিয়া ট্রাম ডিপো, বাংলার রৌদ্র-জলকে চিরবিদায় জানালেন নট-নাট্যকার মনোজ মিত্র, এই বছরের শেষার্ধে (১২ নভেম্বর)। ‘নোটো’ নাট্যগোষ্ঠী মনোজ মিত্রের ৮৭তম জন্মদিন, ২২ ডিসেম্বর, এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান আয়োজন করে। নোটো-র পক্ষে ময়ূরী মিত্র ও অমর চট্টোপাধ্যায় স্বাগত জানান সকলকে। প্রথমার্ধের আলোচনা-পর্বে শ্রুতকীর্তি সাহিত্যিক অমর মিত্র, যিনি মনোজবাবুর কনিষ্ঠ ভ্রাতা, তাঁর বক্তব্যে বলেন, বেলগাছিয়ার ফ্ল্যাটবাড়িতে নাট্য-ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের সাক্ষী থেকেছেন তিনি। এক্ষণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ‘চাক ভাঙা মধু’। সেই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল হাসান আজিজুল হকের ‘জীবন ঘষে আগুন’ গল্পটিও। ইন্দ্র বিশ্বাস রোডের ফ্ল্যাটবাড়িটি হয়ে উঠেছিল ওপার বাংলা থেকে আসা কত মানুষের আশ্রয়স্থল। মনোজ মিত্র প্রথমে ঘর নিয়েছিলেন দোতলায় একটি পরিবারের সহায়তায়। পরে সমস্যা দেখা দেওয়ায় বেলগাছিয়া বস্তিতেও ঘর নিতে হয় তাঁকে। অমরবাবুর বেশ মনে পড়ে, শ্যামল ঘোষ ডাকতে এসেছিলেন মনোজকে। অমর পথ দেখিয়ে নিয়ে যান সেই নিভৃত সৃষ্টিকোণে। তিনি বলেন, কেরিয়ারিস্ট না হয়ে নাটক নিয়েই উত্তাল হলেন মনোজ। একদিকে কলেজে দর্শনের অধ্যাপনা। আর দিবারাত্র নাট্য-নির্মাণের সুলুক-সন্ধান। এইসব নানা বৃত্তান্তের কিছু বিন্দু স্পর্শ করে অমর মিত্র স্মরণ করিয়ে দেন যে, তাঁদের পরিবারের প্রায় সকলেই এক নৌকার যাত্রী। এই প্রণোদনা নিঃসন্দেহে অগ্রজ মনোজ মিত্রের। মধ্যম ভ্রাতা উদয়ন মিত্র ইতিহাসবিদ। অমর মিত্র দেশ-বিদেশে সম্মানিত কথাকার। এমনকি তাঁদের পরবর্তী প্রজন্ম, মনোজ-কন্যা ময়ূরী লিখছেন, থিয়েটার করছেন। অমর মিত্রের পুত্র রাজসিকও ইংরেজি ভাষার এক তরুণ লেখক।

দেবাশিষ মজুমদারের বক্তব্যে স্পষ্ট হয় মনোজবাবুর সমকালীন বাংলার নাট্য মানচিত্র। অভিনেতা দুলাল লাহিড়ী ‘সুন্দরম’ নাট্যদলের দিনগুলির কথা স্মরণ করেন। ‘সাজানো বাগান’-এ তাঁর অভিনয় ছাড়াও ‘মেষ ও রাক্ষস’ এবং ‘নৈশভোজ’-এর কথাও শোনা গেল স্মৃতিরোমন্থনে। মনোজ মিত্রের জামাতা ‘কোরক প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্রে’-র প্রধান অতনু ঘোষ মনোজবাবুর অসুস্থতার শোক-জর্জর মুহূর্তগুলিকে স্পর্শ করতে চাইলেন। রাম মুখোপাধ্যায় গেয়ে শোনালেন ‘নরক গুলজার’-এর সেই বিখ্যাত গান ‘কথা বোলো না শব্দ কোরো না...’

দ্বিতীয়ার্ধে নোটো নাট্যদলের উপস্থাপনায় দেখা গেল মনোজ মিত্রের নাটক ‘বৃষ্টির ছায়াছবি’। চন্দনা চরিত্রে ময়ূরী মিত্রের কণ্ঠে ধ্বনিত হল হাজার বছরের পুরনো কথা— ‘তুমি ভুলে যাও অয়দিপাউস। এসব কথা ভুলে যাও। এ-জীবনে যদি বাঁচতে হয় তো এসব কথা মনে রাখতে নেই। এ পৃথিবীতে যে ভুলতে পারে, সেই বাঁচতে পারে।’ ছেলেটির চরিত্রে অমর চট্টোপাধ্যায়ও শক্তিশালী অভিনয়ের দৃষ্টান্ত রাখলেন। এই নাটক ইতিপূর্বে মঞ্চস্থ হয়েছে। আগামী দিনেও হবে। মনোজ মিত্রের নাটকের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা এই যে, আগামী প্রজন্ম এইসব নাটকগুলির প্রযোজনা দেখতে না পেলেও, হাতের কাছে পেয়ে যাবেন তাঁর নাটক সমগ্রের এক-একটি খণ্ড। শব্দের মধ্যে দিয়েই ডানা মেলবে শত শত দৃশ্য। আলো-আঁধারির বিবিধ বার্তাবাহী এইসব নাটক বাংলা সাহিত্যের চিরকালীন সম্পদ।    

 

নাট্যনির্মাণ বিষয়ে বুঝিয়ে বলতে গিয়ে মনোজ মিত্র লিখেছেন— গোপনীয়তা জীবনে চলে, মঞ্চে চলে না। যত তুচ্ছই হোক আর গোপন হোক, সব কথাই দর্শককে জানান দিতে হয়। নাট্যের কাজই যে প্রচ্ছন্নকে প্রকাশ্যে আনা। ছোট ছোট নানা অনুভূতি বিবিধ উপায়ে দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সব সময়ই ভারি শক্ত কাজ, বিশেষ করে মঞ্চে। সিনেমার ক্ষেত্রে ক্লোজ-আপ, বিগ ক্লোজ-আপের সুযোগ রয়েছে। যাত্রাপালাতে সুদীর্ঘ সংলাপের ঘনঘটার অবকাশ থাকে। তাই তাঁর এক রচনার নাম হয় ‘চড়া নয়, ফিকে নয়, মাঝারি’। দর্শককে কোন উপায়ে বোঝানো যাবে অভিনেতার অভিপ্রায়, তা নিয়ে সর্বদাই চিন্তিত হতে হয় পরিচালককে। সেখানেই বোধহয় থিয়েটারের শক্তি, আবার পরিচালকের সামনে তা চ্যালেঞ্জও বটে। একটি চরিত্রের পছন্দ-অপছন্দ, রুচি, শিক্ষা-দীক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধ— এসব নিয়েই বাস্তব-জীবনের একটি মানুষের ব্যক্তিত্ব বা অস্তিত্ব। তার প্রতিফলন হতে হবে মঞ্চে। সকলেই জানেন, মনোজ মিত্র একজন প্রখ্যাত নট, আবার তিনিই অভিনয় করেছেন সত্যজিৎ রায়, তপন সিংহ-এর মতো প্রথিতযশা চিত্রনির্মাতাদের সঙ্গে। শুধু তাই নয়, মূলধারার বাণিজ্যিক ছবিতেও অভিনয় করেছেন রীতিমতো দাপটের সঙ্গে। এহেন এক শিল্পী যখন নিজেই লিখে চলেন একের পর এক নাটক তা তো নিশ্চয়ই পাঠকের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেবে অনেকটাই। খুবই কম বয়সে অভিনয় করেছিলেন ‘মৃত্যুর চোখে জল’ নাটকে। তাঁরই লেখা এক বৃদ্ধের চরিত্রে রূপদান করেছিলেন মনোজ নিজেই। ১৯৫৭ সালে গড়ে উঠেছিল নাট্যদল ‘সুন্দরম’। স্কটিশ চার্চ কলেজের কয়েকজন পড়ুয়া জোট বেঁধেছিলেন। ছিলেন পার্থপ্রতিম চৌধুরী, যিনি ক্রমশই বন্ধু মনোজকে বলেন, গল্পের টান ছেড়ে নাটক লেখা ধরতে। মনোজ বলেন, বরং তুই লেখ আমি অভিনয় করি। এভাবেই ‘সুন্দরম’-এর গোড়ার দিকের প্রযোজনা ‘মৃত্যুর চোখে জল’। একাঙ্ক নাটক প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। ১৯৫৯ সালে কলকাতায় ‘থিয়েটার সেন্টার’ প্রথম সর্বভারতীয় নাট্যোৎসবের আয়োজন করে। হিন্দি, গুজরাটি প্রভৃতি ভাষার নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিল। সেই উৎসবেই মহাজাতি সদনে ‘মৃত্যুর চোখে জল’ প্রযোজনার চতুর্থ অভিনয়। সেই নাটক দেখে অবাক হয়েছিলেন অহীন্দ্র চৌধুরীর মতো দিকপাল নাট্যনির্মাতা। তখন দলে মেক-আপ করেন অনন্ত দাশ। পরিচালক পার্থপ্রতিম চৌধুরী ছাড়াও দলের সভ্য আজকের প্রখ্যাত মূকাভিনেতা যোগেশ দত্ত। এঁদের সকলের উপস্থিতিতেই অহীন্দ্র চৌধুরী আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন ২১ বছর বয়সী মনোজ মিত্রকে নিয়ে। মুখে প্লাস্টার বসাতে হয়েছে, বৃদ্ধের অভিনয় করতে গিয়ে কি পরিমাণ লাঙল চালাতে হয়েছে তা অভাবনীয়! প্লাস্টারের ওই শক্ত খোলসের নীচে মুখের দুর্বল পেশির নড়াচড়া কী পরিমাণ কষ্টসাধ্য হয়েছে, ভেবে দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন চৌধুরী মশাই। নিয়মিত এই নাটক করতে হলে, কিছু দিনের মধ্যেই চিকন মুখপেশির স্বাভাবিক ছন্দটাই না হারিয়ে ফেলে ২১ বছরের সেই তরুণ! সেই সময়ে, অর্থাৎ ১৯৫০-৬০-এর দশকে বহুরূপী বা এলটিজি বাদে একটি নাটকের নিয়মিত শো চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা ছিল আর কটা দলের! স্বাধীন ভারতে গণনাট্য সংঘ নিষিদ্ধ হওয়ার পর সাধারণ রঙ্গালয়ের নাট্যাভিনয়কেই থিয়েটারের মূলধারা ভাবা হত। অহীন্দ্রবাবু প্রশ্ন করেছিলেন, যে বৃদ্ধকে সকলে মঞ্চে দেখলেন, নাট্যকার তাঁকে পেলেন কোথায়? সেই সময়ের নিতান্ত তরুণ নাট্য রচয়িতা মনোজ জানিয়েছিলেন— উনি আমার ঠাকুরদা। জ্ঞান হওয়ার থেকেই ওঁকে ওই অবস্থায় দেখেছি। ওঁর শিয়রের কাছে বসে লেখা হয়েছে এই নাটক। অহীন্দ্রবাবুর প্রশ্ন, তিনি কি জানেন তুমি তাঁকে নিয়ে নাটক লিখেছ? অকপটে মনোজ জানান, ঠাকুমা জোর করে আমাকে দিয়ে পড়িয়েও শুনিয়েছেন। শোনার পর মনোজের ঠাকুরদা অন্নদাচরণ মিত্র বলেছিলেন— একজনের কথা আরেকজন লিখবে, এত বড় পণ্ডিত ভূভারতে জন্মেছে বলে শুনিনি। এর পর তো অন্নদাচরণ শুনবেন, রেডিওতে তাঁর কথা শুনছে দেশের মানুষ। ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়েছিলেন গৃহত্যাগী হতে। মনোজের ঠাকুরমা হেমনলিনী এবং অন্নদাচরণ তখন বেলগাছিয়ার ফ্ল্যাটবাড়িতে। 

 

 

আশ্চর্যের কথা এই যে, ভারি অদ্ভুত প্রশ্ন তুলেছিলেন সদা অসুস্থ বৃদ্ধ অন্নদাচরণ। সত্যি তো, একজনের কথা আরেকজন লেখে কীভাবে! একজন মানুষের কথা আরেকজন কি বুঝতে পারেন? সম্পূর্ণ বোঝা কি সম্ভব? বোঝা গেলেও, ভাষায় সমস্ত কিছু প্রকাশ কি আদৌ সম্ভব? সেই যে দার্শনিক কিয়ের্কেগার্দ বলেছিলেন— যে যেখানে থাকে, সে সেখানে থাকে না। যে-মানুষটিকে দেখা যাচ্ছে বিশেষ এক অবস্থানে, তাঁর দৃশ্যমানতা যদি অবস্থানের নির্দিষ্ট থাকে, প্রকাশ না করতে পারে তাহলে একজনের কথা আরেকজন লিখবেনই বা কীভাবে? যাকে বলে মমিসিস (mimesis), তা কি তাহলে বহির্বাস্তবের কিছু ছবি মাত্র? দেখা না-দেখায় মেশা এই জগৎ তাই বোধহয় নিত্যনতুন রহস্যের মোড়কে আবৃত হয়। নাহলে নিত্যদিনের সূর্যোদয়ের মধ্যে একটি দিন কোন অর্থে বৈশিষ্ট্য-মণ্ডিত হয় যে সেই দিন কবিকে লিখতে হয় ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’? সদর স্ট্রিটের অনুষঙ্গে কবি প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত তাঁর বইয়ের নামকরণ করেন ‘সদর স্ট্রিটের বারান্দা’ (১৯৬৬)। সেখানেও যেন হঠাৎই সপ্রকাশ হয় এক-একটি দৃশ্য— ‘তৃষ্ণার ভেতর থেকে পাখি উঠে আসে। / হে ঝর্না আমার, / প্রতিটি শব্দকে তুমি সদ্যোজাত শিশুর মতন / দোলাও দুহাতে, তুমি প্রতিটি পাহাড় / প্রতিধ্বনি দিয়ে ভাঙো, নাম ধরে ডাকো— / যেন এইমাত্র চড়ুইভাতির / বন্ধুরা চলেছে ফিরে ভ্রমণরঙিন কোনও গ্রামের ভেতরে।’ এও তো দৃশ্যের মায়া। একটি কল্পদৃশ্যের স্থান নেয় আরেকটি। একইভাবে নাট্যেরও নির্মাণ। মনোজ মিত্রের নাটকে সাহিত্যগুণ এমন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে যে তাঁর নাটক পাঠ্য না দ্রষ্টব্য বলা কঠিন। 

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ছাত্র হিসেবে সাক্ষাৎ পেলেন শিল্পতাত্ত্বিক প্রবাসজীবন চৌধুরীর। আশুতোষ ভবন থেকে প্রেসিডেন্সি কলেজের দিকে হেঁটে যাওয়ার পথে গোলদিঘিতে বসার কথা বললেন অধ্যাপক প্রবাসজীবন চৌধুরী। শিল্পতত্ত্ব বা নন্দনতত্ত্বে এই তরুণের আগ্রহ দেখে ছাত্রটির বিষয়ে খোঁজখবর নিলেন তিনি। জানলেন, ইতিমধ্যেই এই তরুণ ‘মৃত্যুর চোখে জল’ নাটকে রুগ্ন বৃদ্ধের চরিত্রে অভিনয় করেছে। এরপর প্রবাসজীবন চৌধুরী বলেন, এই বিশ্বচরাচরে অভিনেতাদের দৃষ্টান্তেই ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণ করা যায়। নাট্যকার নিজেই রচনা করেছেন, সংলাপ মনে রাখছেন, মঞ্চক্রিয়ায় অভ্যস্ত, সেইসঙ্গে যাবতীয় অ্যাকশন। কথা, কাজ, চিন্তন— সমস্ত কিছু মিলিয়ে দিয়ে অভিনেতারাই হয়ে ওঠেন যেন ঈশ্বরের প্রতিস্পর্ধী। সাহিত্যের ছাত্র মাত্রেই জানেন, ইংল্যান্ডে রেস্টোরেশন-এর যুগে কমেডি-র বিপুল বিস্তার। নাট্য-রচয়িতাকে ড্রামাটিস্ট-এর পরিবর্তে প্লেরাইট বলার চলও এই সময় থেকে। অর্থাৎ, নাটক রচনার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োগের বিষয়টি নিয়েও তিনি ভাবিত হবেন, এমনটাই এই শব্দ বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন চিন্তক রেমন্ড উইলিয়ামস্‌। মনোজ মিত্র সর্ব অর্থেই প্লেরাইট। কারণ, তিনি নাটক রচনা, নির্দেশনা, অভিনয় – প্রায় প্রত্যেক ক্ষেত্রেই একের পর এক কিংবদন্তি সৃষ্টি করেছেন। অথচ সূত্রপাত তাঁর ঘর গেরস্থালীর মধ্যেই। সেই যে ফণীবাবু, যিনি ওপার বাংলা থেকে মনোজবাবুদের ইন্দ্র বিশ্বাস রোডের বাসায় হাজির হলেন, তাঁকে কেন্দ্র করেই ‘পরবাস’-এর মতো নাটক লেখা হল। ১৯৭২-এ ‘কোথায় যাব’ নামে প্রথম প্রযোজিত হয়েছিল। সুন্দরম প্রযোজনায় প্রথম থেকেই ‘পরবাস’ শিরোনামেই প্রযোজিত হয়েছে এই নাটক। মনোজবাবুর বাবা অশোককুমার মিত্র মশাই ছিলেন উচ্চপদস্থ সরকারি চাকুরে। বিদেশি দূতাবাসের তিনি আধিকারিক। তিনি চান তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র দর্শনের অধ্যাপনা করেই জীবন কাটাক। তাই কলকাতার কাছের দুটি কলেজের নিয়োগপত্র মনোজের অজ্ঞাতেই ছিঁড়ে ফেলা হয়। সেই সুবাদে মনোজ রানীগঞ্জ কলেজে দর্শনের অধ্যাপক হিসেবে দূরগামী ট্রেনের কামরায় উঠে বসেন। যাওয়ার আগে নাট্যকার মন্মথ রায় অভয় দিয়েছিলেন যে, তিনিও হাজির হবেন রানীগঞ্জে। উপস্থিত হয়েওছিলেন। উনিশটি দিন কাটিয়েছিলেন। এখানেই মনোজ মিত্র লিখলেন ‘অশ্বত্থামা’। সেই যে ভয়ংকর সংলাপ— কৃপাচার্য তার ভাগিনেয় অশ্বত্থামাকে বলছে, রাজ-অন্ন, সে যে কী গুরুপাক বৎস! কী সাংঘাতিক তার ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া এবং বিষক্রিয়া...। এই সংলাপ আজও নাট্যমোদীর মুখে মুখে ফেরে। দ্রোণপুত্র অশ্বত্থামার ব্রাহ্মণত্ব ঘুচিয়ে দিয়ে ক্ষাত্র ধর্মে তাকে উপনীত করে দুর্যোধন। এই হচ্ছে রাজধর্ম, যা মানুষের সত্তাকে পরিবর্তিত করে বা প্রকৃত সত্তার ওপরে চাপাতে থাকে একের পর এক ছদ্ম আবরণ।  

১৯৭২-৭৩ নাগাদ ‘থিয়েটার ওয়ার্কশপ’ প্রযোজনা করে ‘অশ্বত্থামা’। সারা রাত্রি জেগে মনোজ লিখেছেন নবকলেবরে ‘অশ্বত্থামা’। তিন চরিত্রে এই নাট্য-নির্মাণ। কৃপাচার্যের ভূমিকায় অশোক মুখোপাধ্যায়, কৃতবর্মার ভূমিকায় মনোজ স্বয়ং এবং অশ্বত্থামার চরিত্রে সুদীপ্ত বসু। নির্দেশনা বিভাস চক্রবর্তী। তাপস সেন বলেছিলেন— কোন আলোয় সমন্তপঞ্চকের হ্রদের পাশে দুর্যোধনের ভাঙা রথখানা দেখাবো, সেটাই বড় কথা। রঘুনাথ গোস্বামী দৃশ্যপট নির্মাণে এগিয়ে এসেছিলেন। এক দুপুরবেলায়, চিৎপুরের ট্রামলাইন ধরে লালবাজার থেকে উত্তরমুখো হাঁটা শুরু হল। শাঁখ, কড়িমালা, মোষের সিং, ফকির বৈষ্ণবের মালা, বালা ইত্যাদি সংগ্রহ করা হল। ততদিনে থিয়েটার ওয়ার্কশপ প্রযোজনা করেছে মনোজ মিত্রের আরেকটি কিংবদন্তি নির্মাণ ‘চাকভাঙা মধু’। ইতিপূর্বে নির্মাল্য আচার্য ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘এক্ষণ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল এই নাটক। বিভাস চক্রবর্তী রিহার্সাল শুরুর আগে চলে গিয়েছিলেন মালতিপুর গ্রামে— গাঁ-ঘর চিনতে, গ্রামের মানুষের সঙ্গে দিন কাটাতে, ওঝা-সাপুড়েদের গুপ্ত বিদ্যার খোঁজ নিতে। নাট্যকারের স্মৃতিচারণ থেকেই জানা যায়, শীতের দিনে একদিন তাঁর ঠাকুমা হেমনলিনী দেখলেন, বাড়ির উঠানে এক সাপুড়ে। তখন দেশে একমুঠো ভাত বা অন্তত ফ্যানটুকুর জন্যেও চারিদিকে আর্তনাদ। সাপুড়ে বলে, তার কন্যা কিছুতেই কাজকর্ম করতে দেবে না। সে যাবে দূরে সাপ ধরতে। তার পর মুণ্ডুটা ফাটিয়ে, পুড়িয়ে খাবে। এসবের মধ্যে থেকেই জন্ম নিল জটা, বাদামী, মাতলা, ফুকনা এইসব চরিত্র। গ্রামের জোতদার অঘোর ঘোষকে সাপে কেটেছে। তার বোন দাক্ষায়ণী ঠাকরুণ চায়, ভাইয়ের বিষ নামাক মাতলা। জটা, ফুকনা এদের প্রবল বাধা হেলায় উড়িয়ে বাদামী ক্রমাগত বলতে থাকে, মাতলাকে ঝাড়ফুঁক করতেই হবে। বাদামীর গর্ভের সন্তান কী খেয়েই বা বাঁচবে! এরই মধ্যে দাক্ষাদেবী কথায় কথায় জানিয়ে দেয়, তাকে বাল বিধবা দেখে নিয়ে এসেছিল অঘোর ঘোষ। আপাত ভাই-বোনের সম্পর্কে রয়েছে আরও গূঢ় কথা। সত্যজিৎ রায় এসেছিলেন ‘চাকভাঙা মধু’ প্রযোজনা দেখতে। বলেছিলেন— এমন কাণ্ড থিয়েটারের পক্ষেই সম্ভব। 

   

মঞ্চের কথা ভেবেই মনোজ লিখেছিলেন ‘সাজানো বাগান’। তাঁর বাবার তখন বদলির চাকরি। যেতে হবে সিরাজগঞ্জ মহকুমা শহরে। মনোজের মা রাধারানী মিত্র যাবেন সেখানে। এদিকে বাড়িতে রয়েছেন তাঁর তিন ঠাকুমা— বাবার মা, জেঠিমা এবং পিসিমা (হেমনলিনী, সরসীবালা এবং তাপসী)। তাঁরা রেখে দিলেন মনোজকে। এই পিসি-ঠাকুমা বা তাপসীর সঙ্গে গিয়ে দেখা মিলেছিল বাঞ্ছা কাপালির। তাঁর বোরজের ছাঁচিপান বড় ভালো। কী অপূর্ব বাগান করেছে বাঞ্ছা কাপালি। আম, আমলকী, কাঁঠাল, নারকেল, কূল, বেল কতকিছু। গাছ থেকে পেড়ে বাতাবী লেবু তুলে দেন কিশোর মনোজের হাতে। ১৯৭৭ সালে মঞ্চস্থ হল ‘সাজানো বাগান’। কবি প্রণবকুমার মুখোপাধ্যায় প্রতিদিন তাঁর লেখক-বন্ধুদের নিয়ে আসতেন এই মঞ্চমায়ার সাক্ষী হতে। তারপর দীর্ঘ ২০১৭ পর্যন্ত বারবার সুন্দরম মঞ্চস্থ করেছে এই নাটক। অরুণ মুখোপাধ্যায় বলে গিয়েছিলেন, অর্থের জন্যে এই নাটক যেন থেমে না যায়। অরণ্য ঘোষাল, মানব চন্দ্র, ময়ূরী মিত্র, এঁদের সঙ্গে বাঞ্ছারামের চরিত্রে মনোজ মিত্র নিজে। ওড়িয়া ভাষায় এই নাটক এতই সফল যে, ‘শতাব্দীর কলাকার’ নামের ওড়িয়া দলটিকে মুখ্যমন্ত্রী বিজু পট্টনায়ক ভুবনেশ্বরের কেন্দ্রে নিজেদের ভবন নির্মাণের বন্দোবস্ত করে দিলেন। মণিপুরী ভাষায় প্রযোজনা করলেন রতন থিয়াম। তবে তাঁর বাঞ্ছা কাপালি চরিত্রটি পুরুষ নয়, এক মহিলা। রতম থিয়াম জানান, তাঁদের দেশে কৃষিকাজে হাল ধরেন মহিলারা। ফলে কোনো পুরুষ যদি বাগান-প্রিয় বাঞ্ছারামের চরিত্রে অভিনয় করেন, তা তাঁর দেশের মানুষ মানবেন না। অসহায়, সম্বলহীন বাঞ্ছারামের মৃত্যু-কামনা করছেন জমিদার স্বয়ং। আর বাঞ্ছা জীবনের এক প্রান্তকে ধরে কোনওক্রমে ঝুলে রয়েছে। অথচ কী আশ্চর্য ঝুলন-মায়া! তার বাগানে ফলে-ওঠা অজস্র ফলের গন্ধে মানুষ তো কোন ছার, অশরীরীও জড়িয়ে পড়ে মায়াবন্ধনে। এর পর ১৯৮০ সালে মুক্তি পাওয়া তপন সিংহ-এর ছবিটিও অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়। 

এই প্রান্তবাসী মানুষের কথা বারবার মনোজ মিত্রকে আলোড়িত করেছে। ওপার বাংলার গ্রামে হাটখোলায়, গাজন তলায়, জেলেপাড়া কুমরপাড়া বাগদীপাড়ায় আনাকানাচে কিনু কাহার থেটারের আসর বসাতো। কিনুর দলের কুশীলবরা মোটামুটি তিনজন, ধুয়ো ধরার লোক আরও তিন-চার। তাদের সঙ্গে ছিল সাপুড়ে, জাদুকর প্রমুখ। সে এক অদ্ভুত কাণ্ড! ‘বেহুলা লক্ষ্মীন্দর’ পালায় লক্ষ্মীন্দর-রূপী কিনুকে দংশন করে কালসর্প। আর তার বৌ জগদম্বা কেঁদে কেঁদে সকলের কাছে দশ বিশ এক পয়সা দু’পয়সা সংগ্রহ করে। কুমার রায়ের নির্দেশনায় বহুরূপী প্রযোজনা করে এই নাটক। ‘রইল গো এই চন্দ্র তারা / রৌদ্র শীত বর্ষাধারা / গাঙ শালিখের মিঠে সুর / আকাশ পাহাড় তৃণাঙ্কুর / রইল গো রইল গো / রইল গো ভুবনখানি তোমার তরে’— এই ইহজাগতিকতার উদযাপন বারবার খুঁজে পাওয়া যাবে মনোজ মিত্রের বিভিন্ন পর্বের লেখায়। ‘অলকানন্দার পুত্রকন্যা’-য় অলকার পুত্রকন্যার যখন সংকট, সেই কঠিন পরিস্থিতিতেও অলকা অন্যের সন্তানকে আপন করে নেয়। তার ভাই বাদল বলে—এটা ক্রুয়েল্টি, নিষ্ঠুরতা। কিন্তু অলকা তখনও বলে, বয়স আমার পশ্চিমে। শুভকে যেভাবে দুহাতে তুলে চাঁদ দেখাতাম তা হয়তো পারব না, তবে তোমরা সবাই যদি সাহায্য করো তাহলে...। যা অসম্ভব, তার মধ্যে দিয়েই পথ চলে গেছে দিগন্তের দিকে। সেই বিস্তার অলকাকে দিয়ে যেন বলায়— আমার কেয়াপাতার নৌকা দুটো নোঙর ছিঁড়ে ছুটে গেছে ভরা গাঙের মধ্যিখানে... উথাল পাথাল ঢেউ... হয়তো ভাসবে হয়তো ডুববে। আমি কূলে দাঁড়িয়ে কতক্ষণ চেয়ে চেয়ে দেখব? তার চেয়ে আরেকটা নৌকা গড়ার চেষ্টা করি না কেন? অলকার চরিত্রে চিত্রা সেনকে চিরদিন মনে রাখবে বাঙালি। এর কিছু পরেই ‘শোভাযাত্রা’ নাটকের অভ্যুদয়। পুরনো জমিদার বাড়ি, একখানা রথ, বাঁশবাগানের ছায়া, জড়ভরত এক ছেলে, অতসী, সরসী – কত কিছুই না ঘটে চলে। কিন্তু ওই পুরনো বাড়ির ভেজা ভেজা দেওয়ালের যে ছায়া পড়ে, তা যেন গড়ে তুলেছে নৈঃশব্দের আখ্যান। ‘শোভাযাত্রা’ নাটকে দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তর হয়, কত কী ঘটে চলে। অথচ নৈঃশব্দের এমন চিত্রমালা সচরাচর চোখে পড়ে না। আবার এই নাট্য রচয়িতাই জরুরি অবস্থার প্রতিবাদে লিখে ফেলেন ‘নরক গুলজার’। সেই গান— ‘কথা বোলো না, শব্দ কোরো না, ভগবান নিদ্রা দিয়েছেন, গোলযোগ সইতে পারেন না’— আজও প্রতিরোধের এক দুর্জয় ভাষ্য। 

ব্যক্তি মনোজ মিত্র আজ হয়তো অতীত। চলতি বছরের গত ১২ নভেম্বর, ৮৬ বছর বয়সে তাঁর চিরবিদায়। আজ হয়তো ‘চাক ভাঙা মধু’ কি পরবাস’, ‘আঁখিপল্লব’, ‘সাজানো বাগান’, ‘শোভাযাত্রা’— এগুলি দেখার উপায় রইল না। কিন্তু রয়ে গেল তাঁর আশ্চর্য লেখনীর স্বাক্ষর-বহনকারী তাঁর বইগুলো। পাঁচ খণ্ড নাটক সমগ্র। এই নাটকগুলি ঠিক যতখানি দেখার, ততটাই গভীর অভিনিবেশের সঙ্গে পড়ার।   

মনোজ মিত্রের লেখায় যেমন ফিরে আসে মন্মথ রায়, তরুণ রায়, জহর রায়, বিভাস চক্রবর্তী প্রমুখ নাট্যজনের কথা, ঠিক তেমনই তাঁর লেখনী উপস্থিত করে প্রেমেন্দ্র মিত্র, বনফুল, মনোজ বসু, সমরেশ বসু, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ কবি ও কথাকারদের। মনোজ মিত্র সাহিত্যের না কি তিনি কেবল নাট্য অঙ্গনের, এর উত্তর মনোজবাবু নিজেই দিয়েছেন— নাটক একান্তভাবেই সাহিত্যের। তাঁর মঞ্চনির্দেশগুলো এক-একটি চরিত্র হয়ে সপ্রকাশিত।  তাঁর প্রয়াণলেখ পার হয়ে তাঁর রচনাশৈলীর অজস্র ব্যঞ্জনা, সংকেত, নানা বিভঙ্গ নিয়েও কথা হবে আগামী দিনে।    

 

             

 

মনোজ মিত্রের পিতামহী হেমনলিনীর বড় পছন্দ ছিল তাঁদের দেশের কু-ঝিক-ঝিক রেলগাড়ি। বাড়ির শিউলিতলায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত ‘মার্টিন’ কোম্পানির খেলনা গাড়ি। শিয়ালদা-বারাসাত-বসিরহাট-হাসনাবাদে বসবে ব্রড গেজ লাইন। সংসারে কোনো ব্যাপারেই তাড়া নেই যাদের, যারা মনে করে ভুবন করতে ধরায় এসে তাড়াহুড়ো করলে আর ঘনঘন ক্যালেন্ডার আর হাতঘড়ি দেখলে ছটফট করলে, তাদের কপালে অষ্টরম্ভা; মানব-জনম বৃথা যায়। হেমনলিনী দেবীর মতো মানুষের কাছে কু-ঝিক-ঝিক গাড়িখানা ছিল ঠিক দেবদূতের মতো। স্টেশন মাস্টারকে জিজ্ঞাসা করা হল, সকাল সাতটার গাড়ি কটায় আসবে। মাস্টার মশায়ের চটপট জবাব, বিকেল চারটে না বাজলে কিছু খবর দেওয়া যাবে না। যদি সাতটার গাড়ি সাতটায় পাওয়া যায় তাহলে গাড়িতে বসেই দুর্গা নাম স্মরণ। গাড়ি আটকে গেল মাঝপথে। রেলের জানলায় বসে হেমনলিনী গাইছেন— ‘কৃষ্ণ ভজিবার তরে সংসারে আইনু / মিছে মায়ায় বদ্ধ হয়ে দিন কাটাইনু / ফলরূপে পুত্রকন্যা ডাল ভাঙি ঝরে / কালরূপে বৃক্ষ পরে পক্ষী বাসা করে...’। 

এর পরে স্বাধীনতা, দেশভাগ ইত্যাদি। হাসনাবাদ-বসিরহাট-বারাসাত-কলকাতা। মার্টিন কোম্পানির বড় রেল স্টেশন ছিল বেলগাছিয়া ট্রাম ডিপোয়। রেল চালকদের আপিস বাবুদের গঞ্জনা শুনতে হয় না। নদী-নালা-গাছপালা পেরিয়ে ফুরফুরে বাতাস গায়ে লাগিয়ে ফুলবাবুটি যখন খুশি এলেন আবার গেলেন। তিনি কিনা ডালহউসির ট্রাম চালককে বলেন— ‘ফুটুসখানি তো রাস্তা। এই কারণেই ঠেলাগাড়িও তোদের চমকায়’। তেড়ে আসেন ট্রাম চালক। হাঁক পেড়ে বলেন— ঝাঁঝাঁ রোদ, তারই মধ্যে গঙ্গায় বান।ঠনঠনে কালীতলায় কোমর সমান জল। বিদ্যুৎ চলে যায়। গাড়ি থেমে যায়। এক একটা গাড়ি চলে না। ধর্মতলা ডিপোয় খবর পাঠালে চাঙা গাড়ি আসে বেলগাছিয়ায়। হাসনাবাদের রেল থেকে নামছেন হেমনলিনী দেবী আর তাঁর বোন মৃণালিনী। তাঁরাও যাবেন ২৭-বি ইন্দ্র বিশ্বাস রোডে। ট্রাম ডিপো থেকে তিন-চার মিনিট হাঁটা পথ। কি আশ্চর্য সমাপতন! বাংলার নাট্য জগৎ শূন্য করে বিদায় নিলেন মনোজ মিত্র। তখনই শোনা গেল, বেলগাছিয়া ট্রাম ডিপোর ৫২ কাঠা জমি চলে যাবে রিয়েল এস্টেটের হাতে। ট্রাম ডিপোর গায়েই বেলগাছিয়া রাজবাড়ি। এখানে এসেছেন মাইকেল মধুসূদন সহ আরও কতজন। মনোজ মিত্রের স্মৃতিপটে আঁকা ছিল এইসব কত ছবি। দেখতে দেখতে বুঝিবা সব অলীক হয়ে যাবে।      

 

চিত্র সৌজন্য : 

১) Dramatic Moments, Nemai Ghosh, Seagull, Navin Kishore

২) নাট্য শোধ সংস্থান

 

গ্রন্থ সহায়:

১) নাটক সমগ্র মনোজ মিত্র, ১ম – ৫ম খণ্ড, মিত্র ও ঘোষ

২) নাটকের নানা রং, বাসবী রায় ও শুভ্র মজুমদার, নাট্য শোধ সংস্থান

৩) মনোজাগতিক, মনোজ মিত্র, দে’জ পাবলিশিং 

৪) গল্প না, মনোজ মিত্র, দে’জ পাবলিশিং 

৫) ভাসিয়ে দিয়েছি কপোতক্ষ জলে, মনোজ মিত্র ও অমর মিত্র, দে’জ পাবলিশিং 

   

 

 

2 Comments
  • avatar
    অমর মিত্র

    29 January, 2025

    এক্ষণ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল চাক ভাঙা মধু। সাজানো বাগান নয়। লেখাটি ভালো। তথ্য সমৃদ্ধ।

  • avatar
    সুদেব সিংহ

    29 January, 2025

    লেখা কম্পোজ করার সময় ভুল হয়ে গেছে। এক্ষণ পত্রিকায় চাক ভাঙা মধু প্রকাশের কথা লেখার মধ্যেই উল্লিখিত হয়েছে। শ্রদ্ধাভাজন কথাকার অমর মিত্র রিপোর্টিং অংশে ভুলটি দেখিয়ে দিয়েছেন, সেজন্য তাঁকে সবিশেষ কৃতজ্ঞতা। প্রতিবেদক।

Leave a reply