বাবাকে কাঁদতে দেখিনি কখনো
বাবাকে কাঁদতে দেখিনি কখনো
প্রচন্ড ধবংস কিংবা
ক্রমাগত ভাঙনের শব্দেও দেখিনি
বাবা কাঁদছে,
এক ধাক্কায় যেদিন চেয়ারের সব পা গুলো সঁপে দিল
নিজেদেরকে নতুন রাজার হিপপকেটে
যখন একে একে বিক্রি হয়ে গেল শেষতম ইটের টুকরোটাও
বাবা কাঁদেনি,
শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা বিদ্রুপ ছুড়ে দিয়ে
বলেছিল, 'এত খিদে তোমার?
আর কত খাবে আমাদের মাংস রক্ত?'
সেদিনও কাঁদেনি বাবা, যেদিন আমি প্রথম চুমুক দিলাম
দেশি মদের প্লাস্টিক বোতলে,
লাল আলোর দেশে যৌবন পরখ করতে গিয়ে
তিনদিন আটকে থাকলাম যখন
লক আপের বাইরে দাঁড়িয়ে সেদিন বাবা বলেছিল মাকে
'তুমি রত্নগর্ভা! '
বাবার রক্তে লাল রং গাঢ় হতে হতে যেদিন
জমাট হয়ে গেল
সেদিনও চোখের ভিতর কোনও জল ছিল না
বরফের মত স্বচ্ছ হয়ে জমেছিল
শ্মশানের আগুন
আর আমাদের দিকে সেদিন শেষবারের মতো ছুড়ে দিয়েছিল
জীবনের ছাই
সেই ধ্বংসচিহ্ন গায়ে মেখে আমরা হয়ে উঠেছিলাম
ক্যামোফ্লেজ ঔপনিবেশিক...
অরুণদা তুমি আছ
স্মৃতির সম্মতি নিয়ে লিখতে হবে তোমার কথা
তুমি এই মাত্র হয়ে গেলে নক্ষত্রলোকের বাসিন্দা
এত সহজে কি বদলানো যায় ঠিকানা?
আশি বছরটা নস্যির মত নস্যাৎ করে চলে গেছ
অথচ সমস্ত বাস্তবে তোমার বর্তমান উজাগর হয়ে আছে
আজ বড্ড ধূসর শ্রীরামপুরের আকাশ
ম্লান চাঁদের আলোয় ফুটে উঠেছে সেই ফুলভর্তি
মহুয়া গাছ
ওর আজ তোমার পাশে থাকার দিন
বেমানান লাগবে হয়ত তোমার
কবিদের অমন ভাবাটাই তো স্বাভাবিক
তবু সেই মহুয়া 'লালপাহাড়ির দ্যাশ' থেকে
এসেছে একচোখ আদর আর একবুক প্রণাম নিয়ে
ভালোবাসা তুমি অনেক পেয়েছ
যদিও তোমার
চকোলেটের সংখ্যার তুলনায় তা যথেষ্ট কম
কিন্তু তাতে কি!
তোমার স্নেহ তো লেগে আছে আমাদের কপালে চিবুকে আর কলমে
তুমি ভালো থেকো ওই দ্যাশে
তুমি ভালো থেকো ওই 'টাঁড় জমিনটোর' গাছে গাছে ফোটা আগুনে
তোমার জন্য আমরা সাজিয়ে রেখেছি লালপাহাড়ির হৃদয় ...