
রঙ্গিত কখনোই খুব একটা জোরে ছোটেন না। বেঙ্গলি মিডিয়াম স্কুলে পড়তেন। বাবা ঠিক করলেন ওকে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করাবেন। সেই নামিদামি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের প্রিন্সিপাল আবার রঙ্গিত তখন যে ক্লাসে পড়তেন সেই ক্লাসে ভর্তি নিতে রাজি হলেন না। এক ক্লাস নিচে ভর্তি হতে হবে। কারণ তাদের স্কুলের শিক্ষার মান রঙ্গিতের বাংলা মিডিয়াম স্কুলের মানের তুলনায় অনেকটাই উঁচুতে। অন্তত প্রিন্সিপাল স্যারের ব্যক্তিগত বিশ্বাস সেরকমই ছিল। মায়ের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও, বাবা তাকে ঐ ইংরেজি মাধ্যম স্কুলেই ভর্তি করে দিয়েছিলেন। হ্যাঁ, এক ক্লাস নিচুতেই। আসলে বাবার জীবনদর্শনের অঙ্কটা ছিল একেবারে ভিন্ন ধরনের। বাংলা মাধ্যম বনাম ইংরেজি মাধ্যম নয়। এক বছর পিছিয়ে পড়েও, যদি রঙ্গিতের জীবনের ভিত্তিটা শক্তপোক্ত হয়, তার ভাবনাটা এই অঙ্কেই এগিয়েছিল। বাবার জীবনের সমীকরণটাকে রঙ্গিত সারা জীবন অনুসরণ করেছেন মনে-প্রাণে। জীবনটাকে তিনি কখনো এক মুহূর্তের জন্যেও হার্ডল রেস বানিয়ে তোলেননি। বহুবার নানাভাবে, নানা দিক থেকে, নানা আঙ্গিকে, চোখ ঝলসে দেওয়া, ধাঁধিয়ে দেওয়া প্রলোভন যে আসেনি তা কিন্তু নয়, কিন্তু রঙ্গিত কখনো মাথা নোয়াননি। ইঁদুর দৌড়ে নেমে জীবনকে হয়তো আরো অনেকটাই বেশি উন্নতি, স্বাচ্ছন্দ্য, বিলাসিতা, তিনি দিতে পারতেন। নিজের জন্য কিনতে পারতেন অনেকটা পার্থিব সুখ। কিন্তু, সে সময়গুলো, প্রলোভনের চরম হাতছানিগুলোর মুহূর্তে, তার প্রয়াত বাবার মুখের ছবিটা ভেসে উঠত। রঙ্গিতকে পথটা চিনিয়ে দিয়ে বাবা চলে গিয়েছিলেন। তখন রঙ্গিত সদ্য কিশোর। কিন্তু তার পরের জীবনে বাবার জীবন-দর্শন অনুপ্রাণিত হয়ে তা অনুসরণ করে চলেছেন। জীবনটাকে তিনি কখনো হার্ডল রেস বানিয়ে তোলেননি। হার্ডল বা ইঁদুর দৌড় কেন, হয়তো জীবন প্রক্রিয়ায় কখনো, কোথাও, কোনও রেসের মধ্যেই তিনি ছিলেন না। অন্ধের মত দৌড়ালেই কি জীবনে সবকিছু চলে আসে? ঠিক দু হাতের পাতায় অঙ্কিত রেখাগুলোর মত স্থায়ী ও নিশ্চিতভাবেই?
নিম পাতার মতো সবুজ প্রথম ভোরে তিনি তারই সঙ্গে দৌড়তে থাকা মানুষদের দিকে এক ঝলক তাকিয়ে দেখেন। গোলপার্কটাকে এক পাক দিয়ে রামকৃষ্ণ মিশনকে পাশ কাটিয়ে রঙ্গিত এখন রবীন্দ্র সরোবরের গভীর সবুজে ঢুকতে চলেছিলেন। ঠিক তখনই তার চোখ আটকে যায় যুগরাজের দিকে। উঠতি টেনিস খেলোয়াড়। রঙ্গিত বুঝতে পারেন, এর মধ্যে ওর দমে টান পড়েছে। মুখে লালচে ভাব, গলার শিরা সামান্য ফুলে উঠেছে। রঙ্গিতের ভীষণ মন খারাপ লাগে। বয়সে তার প্রায় অর্ধেক। এখনই দমের এই অবস্থা। তার উপর যে কিনা একজন খেলোয়াড়। এরকম মানুষদের দেখে রঙ্গিত মোটেই কিন্তু কোনও আত্মপ্রসাদ বা গর্ব অনুভব করেন না। বরং তার ভীষণ এক ধরনের মন খারাপের অনুভূতি এবং করুণা হয়। রঙ্গিত এই বয়সেও ঢাকুরিয়া ব্রিজ ধরে নেমে এসে গোলপার্ক কে একটা পাক মেরে গোটা রবীন্দ্র সরোবরকে ঘিরে একটা চক্কর কেটে ফিরে আসেন। এতটা পথ দৌড়ে আসার পর তার ঠোঁট ফাঁক হয়ে হাই ওঠার মতো ক্ষীণ বাতাস বের হয়ে আসে। রামকৃষ্ণ মিশনের উল্টো ফুটপাথের চায়ের কিয়স্কটা লেবু চায়ের কাপে মৃদু চুমুক দেওয়ার সময়, জীবন তার কাছে একটা ধবধবে সাদা পাতার মত ক্লান্তিহীন হয়ে ওঠে। এত সহজেই যে রঙ্গিত কী করে ভারমুক্ত, স্ট্রেসবিহীন হয়ে যান সেটা তিনি নিজেই বুঝে উঠতে পারেন না। তার পাশে দৌড়ানো মানুষগুলোও সম্ভবত বুঝে উঠতে পারে না সে রহস্য। রঙ্গিত জানেন, বুঝে উঠতে পারেন, ঠিক সেই কারণেই তার প্রতি একটা গোপন ঈর্ষা পোষণ করে এরা প্রায় সকলেই। সরোবরের ভেতর দিকে ঢুকে এসে যুগরাজকে সঙ্গ দেবার জন্যেই রঙ্গিত নিজের গতি সামান্য কম করলেন। পাশাপাশি দৌড়াতে দৌড়াতে তিনি বুঝলেন যুগরাজ তবু পারছে না। কিছুটা এগিয়েই দাঁড়িয়ে পড়ে সে --" আজ এই পর্যন্তই থাকুক দাদা " ক্লান্তিহীন রঙ্গিতকে আড়চোখে মাপতে- মাপতে অসহায় ভঙ্গিতে বলে সে। রঙ্গিত সামনে তাকালেন। সরোবরের গাছগাছালি ছাওয়া অ্যাসফল্ট পথে ছায়াময়তা ঘন হয়েছে। রঙ্গিত নিজের গতি আরো কমালেন। যুগরাজ তবু পারছে না। সে অনড়, স্থির, ঘামে ভেজা মুখ, বুকটা হাপরের মতো উঠছে-নামছে। ঘামে ভেজা মুখে আকাশের দিকে তাকায় যুগরাজ" বৃষ্টি নামবে মনে হচ্ছে। " রবীন্দ্র সরোবরের গাছগাছালি থেকে বৃষ্টির একটা সুপ্ত ঘ্রাণ যে রঙ্গিত পাচ্ছিলেন না তা নয়, কিন্তু ভালই বুঝলেন যুগরাজের দেওয়া এই বৃষ্টির পূর্বাভাস আসলে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। রঙ্গিত একটু ক্ষুব্ধই হলেন যুগরাজের এই বুদ্ধির মার প্যাঁচ কষবার চেষ্টায়। রাগটা প্রকাশ করলেন না। কপালের চামড়ায় সামান্য কিছু কুঞ্চন দেখা দিল। " কী ব্যাপার? শরীর খারাপ? " যুগরাজ থমকে যায়, ওর শরীরে কেমন একটা অস্বস্তি জাগে। ওর ক্লান্ত, বিষণ্ণ, সামান্য অস্থির চোখের দিকে তাকিয়ে রঙ্গিত বুঝলেন, শুধুমাত্র শারীরিক ক্লান্তি নয়, , তার প্রশ্ন যুগরাজ মুখার্জির এমন এক জায়গাকে বিদ্ধ করেছে যার পর মানুষের স্তব্ধ হয়ে যাওয়া ছাড়া কোনও উপায় থাকে না। শুকনো গলায় সে বলে - " সে রকম কিছু না" যুগরাজ ঢোঁক গিলে, চুলে আলতো হাত বোলায়, , চোখের ভাষা উদাস- বিষণ্ণতর হয়ে ওঠে " আসলে ন্যাশনাল মিটে কোয়ালিফাই করতে পারব কিনা সেই নিয়ে খুব চাপে আছি। যথেষ্ট ranking পয়েন্ট এখনো জোগাড় হয়নি। বছরটা ভালো যাচ্ছে না। " একটু থেমে যুগরাজ আবার বলে ওঠে "একজন স্পন্সর যার সঙ্গে আমার মাল্টি ইয়ার কন্ট্রাক্ট ছিল ইতিমধ্যে সে কন্ট্রাক্ট উইথড্র করেছে। বাকি দুজনের একজনও সরে যেতে চাইছে আমার খারাপ পারফরমেন্সের জন্যে। এখন আর কিছু ভালো লাগে না জানেন? প্র্যাকটিশেও কনসেনট্রেট করতে পারছি না। "হতাশাজীর্ণ গলাটা আবার ডুকরে ওঠে যেন বিষাদভরে --" কী যে করব… " যুগরাজ দাঁড়িয়ে পড়ায় রঙ্গিতও বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন। সরাসরি এবার যুগরাজের চোখে চোখ রাখেন। আর সেখানে তিনি স্পষ্ট দেখতে পেলেন এক ধ্বংসস্তূপের প্রতিবিম্ব।
সহ মানুষকে ফেলে এগিয়ে যাওয়া তার অভ্যাস নয়। থমকে দাঁড়িয়ে পড়া রঙ্গিত যখন ব্যথিত চোখে্ যুগরাজকে দেখছিলেন ঠিক তখনই, রবীন্দ্র সরোবরের আকাশ জুড়ে হাওয়ায় টাল খেতে খেতে নেমে এলো গুঁড়ো গুঁড়ো বৃষ্টির দানা। দুজনে রামকৃষ্ণ মিশনের উল্টো দিকে একটা শেডের নিচে দাঁড়ালেন। যুগরাজ আকাশের দিকে দেখতে থাকে। আর রঙ্গিত দেখতে থাকেন যুগরাজ কে। অবশ্য ওর দিকে না তাকিয়েও রঙ্গিত এখন বলে দিতে পারেন ওর চোখে এখন কি খেলছে। দুবারের ন্যাশনাল টেনিস চ্যাম্পিয়ন যুগরাজ মুখার্জির চোখ দেখছি অনেক দূর, মনে আকাঙ্ক্ষা আকাশ ছোঁয়ার। স্বপ্ন আবার ভারতের সেরা টেনিস খেলোয়াড়ের খেতাব ফিরে পাওয়া। ভারতের জার্সি গায়ে ডেভিস কাপ খেলবার। যে স্বপ্নটা ছুঁতে ছুঁতেও হাত ফসকে গেছে ওর। পৃথিবীর সেরা ওয়ার্ল্ড র্যাঙ্কিং- তে থাকা সেরা বিপক্ষের বিরুদ্ধে আমেরিকান ওপেন, ফ্রেঞ্চ ওপেন, ইতালিয়ান ওপেন, উইম্বল্ডন এরকম নামী সব টুর্নামেন্টে খেলা। যে স্বপ্ন থেকে কয়েক আলোকবর্ষ দূরে এখন যুগরাজ। অথচ আজ থেকে মাত্র বছর পাঁচেক আগে কি সাড়া জাগানো, চাঞ্চল্যকর উত্থান ঘটেছিল ভারতীয় টেনিসে যুগরাজ মুখার্জির। লিয়েন্ডার পেজের পর আবারো, বহু বছর পর, কলকাতা থেকেদূর্দান্ত এক তরুণ টেনিস প্রতিভা সাড়া জাগিয়ে উঠে এসেছিল। টেনিস বিশেষজ্ঞরা লিয়েন্ডারের মতই বিরল প্রতিভা ভাবতে শুরু করেছিলেন কলকাতার এই তরুণকে। আর তাদের মতামতকে সত্যি প্রমাণ করে ভারতীয় টেনিসের আকাশে আবির্ভাবের প্রথম তিন বছরেই জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে দুবার চ্যাম্পিয়ন আর একবার রানার আপ হয়েছিল যুগরাজ। টেনিসপ্রেমীরা ধরেই নিয়েছিল ভারতের টেনিস জগতে নতুন নক্ষত্র এসেছে। অথচ সেই নক্ষত্র আজ টেনিস মহাকাশ থেকে অনেকটাই চ্যুত হয়েছে্। ভারতীয় সার্কিটেই ক্রমে হারিয়ে যেতে বসেছে সে। সকালের দৌড়ের মাঝে স্বল্পালাপেই রঙ্গিত যুগরাজের মুখেই জেনেছেন ওর স্বপ্ন পূরণে গত তিন বছর বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ওর দুই নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী দক্ষিণ আর পশ্চিমের দুই তরুণতর খেলোয়াড় বেঙ্গালুরুর গুরূপ্পু সাঁইদর্শন ভেঙ্কটজয়রাম আর বরোদার বিভোর চেতন পরাগকার। শারীরিক সক্ষমতাতে কিছুতেই এদের সঙ্গে এঁটে উঠতে পারছে না যুগরাজ। টেনিসের স্কিল নয়, সেটা বরং ওদের চেয়ে যুগরাজকেই অনেকটা এগিয়ে রাখবে। আসল তফাৎটা করে দিচ্ছে ফিটনেস লেভেলই। সেই চরম হতাশা থেকেই রাতে ঘুমোতে যুগরাজের এখন তিন-চার পেগ হুইস্কি লাগে। রাত দেড়টা- দুটো পর্যন্ত জেগে থাকলে সকালের দৌড়ে শরীর বশে থাকবে কেন? সহযোগিতা করবে কেন? আর স্বাভাবিক কারণেই, এইসবের জন্যেই যুগরাজের ফিটনেসে ঘাটতি, স্কিলে জং ধরছে।
তাদের ভোরের দৌড়ের দলটাতে সবাই-ই রোজ দৌড়চ্ছে নিজের ব্যক্তিগত লক্ষ্যকে সামনে রেখে, স্বপ্নকে লক্ষ্য বানিয়ে। কিন্তু রঙ্গিত? রোজ ভোররাতে রঙ্গিত কিসের খোঁজে দৌড়াতে বের হন? দুজন মানুষ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকলে অনেক সময় এমন সব কথা হয় যার কোনও সুস্থির কেন্দ্রবিন্দু থাকে না। ওদের কথোপকথনও সেই ভাবেই এগোচ্ছিল। অথচ সেই কথোপকথনের তলে কোনও একটা অদৃশ্য রেখা জুড়ে থাকে, যার মাধ্যমে দুজনেই একে অপরের মনের অভ্যন্তরে সংগোপনে প্রবেশ করতে চায়। কথা বলতে বলতে যুগরাজের চোখদুটো একটা ৮-১০ বছরের বাচ্চার মতো হয়ে ওঠে --- "রঙ্গিতদা একটা কথা বলবেন সত্যি করে? এই বয়সেও এত দম আপনি পান কী করে? এতটা দূরত্ব টানা সুন্দরভাবে দৌড়ে যান, টানটান, রহস্যটা কোথায়….? " কথাটা শুনতে শুনতে রঙ্গিত অনুভব করেন যুগরাজ তার চোখমুখে একটা পাতলা হাসির আভাস ছড়িয়ে দেবার চেষ্টা করলেও সেটা তার মুখটাকে পাতলা মুখোশের মতো বানিয়ে তুলেছে। যেটা তার মুখে চোখে আটকে থাকা বালকভাবের আড়ালের চাতুর্যের ভাস্কর্যটাকে মুছতে পারল না। রঙ্গিত যুগরাজের মুখে চোখে ঝুলে থাকা এই চতুরতাটাকে খুব ভালোভাবেই জানেন। চেনেন। কোনও মানুষ যখন এক চরম বিপন্নতার মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়, তার অসহায়তার যন্ত্রণাটা প্রকাশ করে ফেলে, সে তখন আসলে এক মরিয়া, বেপরোয়া, মানুষ হয়ে ওঠে। আঁকড়ে ধরতে চায়….. এই যে একটু আগে যে কথাগুলো যুগরাজ বলল, সেগুলো তো আসলে মন -হৃদয় থেকে উচ্চারিত কোনও প্রশংসা নয়, কোনও স্বীকৃতি নয় সত্যি করে বললে। সুচতুর নিপুণতায় রঙ্গিতের সাফল্যের, দক্ষতাটুকুর, যদি কোনও গোপন ফর্মুলা থাকে সেটাকে করায়ত্ত করার ভদ্রোচিত চেষ্টা। আসলে, তাদের এই ভোরের দৌড়ের একটা গোটা পরিবার আছে। রঙ্গিত যেমন বাবু বাগান থেকে আসেন কাকভোরে দৌড়াতে। ডক্টর বসু মল্লিক, কলকাতার সেরা পাঁচ জন কার্ডিওথোরাসিক সার্জনের একজন, আসেন গড়িয়াহাটের "মায়ামুকুর ' অ্যাপার্টমেন্ট থেকে। প্রাক্তন আর্মি অফিসার ট্যান্ডন সাহেব, আসেন হিন্দুস্তান পার্ক থেকে। শ্রীময়ী আসে যোধপুর পার্ক থেকে। তরুণ থিয়েটার কর্মী সরল দাশগুপ্ত আসেন কাছের সাউথ এন্ড রোড থেকে।
সামনে কোনও লক্ষ্য না থাকলে নাকি দৌড়ানো যায় না। কথাটা বারবার ফিরে ফিরে আসে, আসতে শুনেছেন রঙ্গিত তাদের এই সকালের দৌড়ের আড্ডাতে। যুবরাজ যেমন ছোটে ভারতের ডেভিস কাপ জার্সি শরীরে জড়িয়ে খেলবার লক্ষ্যে। অতি সেক্স চাহিদা সম্পন্না স্ত্রীর শারীরিক চাহিদা নিজের বিশাল মধ্যপ্রদেশের জন্য মেটাতে পারছেন না সেই লক্ষ্যে দৌড়াতে আসেন, পেট- কোমরের চর্বির তাল কমাতে দৌড়ে চলেন প্রাক্তন সেনাকর্মীটি। শ্রীময়ী উঠতি মডেল। নিজের ফিটনেস ট্রেনারের পরামর্শে নিজেকে আর তন্বীতর বানাতে দৌড়ে চলে নিজের লক্ষ্যকে ঘিরে। রঙ্গিত জানেন তাদের যে দলটা প্রতিটি ভোরে ঢাকুরিয়া লেককে ঘিরে পাক মেরে দৌড়ে চলে, তাদের সবাই -এরই এরকম ছোট- বড় লক্ষ্য আছে। কারোটা তিনি জানেন কারোওটা জানেন না। অথচ অদ্ভুতভাবে, তিনি লক্ষ্য করে দেখেছেন, তার পাশাপাশি নিজের- নিজের ব্যক্তিগত লক্ষ্য পূরণে দৌড়ে চলা মানুষগুলোর সবার দৃষ্টি একরকম। এই মানুষগুলো তার পাশে দৌড়াতে দৌড়াতে একসময় হাঁপিয়ে ওঠে, দমে টান ধরে, পা দুটো পাথরের মত ভারী হয়ে ওঠে, অথচ রঙ্গিত তখনো শুরুর এনার্জি নিয়ে দৌড়ে চলেন, এগিয়ে যান। পিছিয়ে পড়া, ক্রমে দূরত্ব বাড়তে থাকা, রঙ্গীতের ভোরের দৌড় সঙ্গীরা ক্রমে অপস্রিয়মাণ, , এগিয়ে চলা রঙ্গিতের দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে। মানুষটা এই বয়সেও এত দম, এনার্জি কোথা থেকে পায়? কি রহস্য? রঙ্গিত জানেন আড়ালে এটা ওদের চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে শেষ কয়েক মাস। কার মুখে শুনেছেন এই মুহূর্তে মনে করতে পারছেন না, খেয়াল হচ্ছে না, প্রাক্তন সেনা অফিসার ট্যান্ডন সাহেব রঙ্গিতের অনুপস্থিতিতে অন্যদের সামনে জোর গলায় মন্তব্য করেছিলেন -- আই অ্যাম শিওর দ্যাট ম্যান টেকস সামথিং, স্টিমুলেটিং। " এই দলটায় রঙ্গিতকে ভালোবাসে, তার শুভাকাঙ্ক্ষী, এমন অনেকেই আছে। তারাই কেউ কথাটা রঙ্গিত কে পরে জানিয়েছিল। রঙ্গিত মনে মনে, উচ্চকিত, হেসেছিলেন। যে মানুষটার জীবনে এখন কোনও ফিনিশিং পয়েন্টেই নেই, সে কেন উত্তেজক ওষুধ ব্যবহার করতে যাবে? বিশেষ করে সামান্য ভোরের দৌড়ের জন্য? কার সঙ্গে তার প্রতিযোগিতা? মুকুতা চলে যাবার পর সত্যিই তার জীবনে এখন আর কোনওো স্থির লক্ষ্যই নেই। মুকুতার ছয় বছরের অসুস্থতার সময়টাতে জীবন একটা শিডিউলবদ্ধতার খাঁচায় আটকে পড়েছিল। এখন সেই বাধ্যবাধকতা নেই। রঙ্গিত এখন সম্পূর্ণ মুক্ত, স্বাধীন, সে এক নগ্ন নিষ্ঠুর বাস্তব। শোক পর্ব পেরিয়ে যাবার পরেই যা সামনে এসে দাঁড়ায়, প্রকট হয়ে ওঠে। মুকুতা তার অসুস্থতার কারণে রঙ্গিতের জীবনে এক না-ফুরোনো একঘেয়ে বাধ্যবাধকতা, নিষ্ঠুরতা, হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘ ছয় বছর যে বাধ্যবাধকতা, একঘেয়েমিকে বহন করতে হয়েছিল রঙ্গিতকে। ক্রমশ জীবন তার কাছে এক ক্লান্তিকর, অসহ্যকর, দৈনন্দিন বিষ পান হয়ে উঠেছিল। নিজেকে আটকে ফেলতে হয়েছিল মুকুতার অসুস্থতার শেকলে। দম বন্ধ হয়ে আসতো। অথচ, ওকে মুক্ত -স্বাধীন করে দিয়ে মুকুতা চলে যাবার পর, হঠাৎ করেই জীবন যখন প্রবল অবসাদ আর বিষণ্ণতার যোগফল হয়ে উঠেছিল, রঙ্গিত বুঝতে শুরু করেছিলেন মানসিক এবং শারীরিক ভাবেও মুকুতাহীনতায় ক্রমেই নিঃশেষিত হতে চলেছেন, এবং সেটাকেই নিজের অনিবার্য নিয়তি ভেবে নিয়েছিলেন তিনি। তারপর, হঠাৎই, হঠাৎই এক শেষ রাতে ঘুম ভেঙে গিয়েছিল তার। অনতিক্রম্য, প্রবল বিষাদজমাট বাঁধা মন- শরীর নিয়ে বিছানায় উঠে বসেছিলেন। পর্দাটা টানা জানালার ফাঁক দিয়ে তার চোখ গিয়েছিল সদ্য জেগে ওঠা গোলাপি আবির মাখা সূর্যের দিকে। হঠাৎ- হঠাৎই এক আশ্চর্য মুগ্ধতায় তার মন ভরে উঠেছিল। রাস্তায় নজর পড়তেই দেখতে পেয়েছিলেন সেই কাক ভোরেই রাস্তায় নেমে পড়েছে প্রচুর মানুষ। কেউ হাঁটছে, কেউ হালকা দৌড়াচ্ছে। নিমেষে ইচ্ছেটা পেয়ে বসেছিল তাকেও। কয়েক মিনিটেই নিজেকে প্রস্তুত করে নিয়েছিলেন। পায়ে পুরোনো স্নিকার জুতোজোড়া। রাস্তায় নেমে এসে নিজেকে মিশিয়ে দিয়েছিলেন সেই সদ জেগে্ ওঠা ভোরে নানা লক্ষ্মীর মতো প্রথমে আসা নানা বয়সী মানুষদের দৌড়ের মধ্যে।
সেই শুরু। মুকুতা চলে যাবার পর প্রবল বিষাদে ডুবে থাকা রঙ্গিত নিজের অনিবার্য পরিণতি বুঝে গিয়েছিলেন। আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকালে তার শিরদাঁড়া বেয়ে এক হিমস্রোত বয়ে যেত। আয়নায় নিজের চোখের দিকে তাকালে তিনি এক ধ্বংসস্তূপের প্রতিবিম্ব দেখতে পেতেন। এক ভেঙেচুরে যাওয়া, সর্বনাশ গিলে খেতে বসা মানুষের প্রতিচ্ছবি থাকত সেখানে। যে কারণে এখন যুগরাজের চোখে চোখ রাখলে বুকের ভেতর সেই একই কাঁপুনি টের পান তিনি। ভয় করে তার, ভীষণ ভয় করে।
সেই শুরুর ভোরটির পর ক্রমশ এক নেশার মতো হয়ে উঠেছে তার কাছে এই ভোরের দৌড়। পেছনে ফেলে রেখে যাওয়া ওইসব মানুষগুলোর প্রচ্ছন্ন ঈর্ষা তাকে ছুঁতে পারে না। রঙ্গিত নিজেও জানেন না এত দাম তিনি কোথা থেকে পান? শুধু একটা বিশ্বাস থেকে তিনি দৌড়ে চলেন। আরও এগিয়ে চলেন------ যত দৌড়বেন ততই অবসাদের জড়জাল মুক্ত হতে পারবেন। হয়তো এটাই তার মোটিভেশন। তার জীবনের একমাত্র এন্টারটেইনমেন্ট। মুকুতা জীবনের শেষ দানটা দিয়ে চলে যাবার পর, সাংসারিক বন্ধন, , দায়বদ্ধতা, বলে তার জীবনে এখন কিছুই নেই। সমস্ত রকম সামাজিক উদযাপন থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন, গুটিয়ে নিয়েছেন। এখন যেটুকু জীবন, শুধু নিজের জন্য, নিজের কাছে। কলেজের চাকরিটাও ছেড়ে দিয়েছেন। সকালে আর সন্ধেতে টিউশন। সপ্তাহে এরকম চার দিনে আট জোড়া ব্যাচকে টিউশন, তাতেই দিব্যি চলে যায়। কারণ জীবনের কাছে তার চাহিদা, প্রয়োজন এখন ন্যূনতম থেকেও ন্যূনতর।
রঙ্গিত উজান পথে দৌড় শুরু করেন। যুগরাজের প্রশ্নটার ঠিকঠাক উত্তরটা শেষ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। বা এমনও হতে পারে, অবচেতনে তার মনে কাজ করেছে --- এই প্রশ্নের উত্তর তেমন করে গুছিয়ে, যথাযথভাবে, না দিলেই বা কি এসে যাবে? উত্তরের অভাবে কতটুকু পরিবর্তন ঘটবে চারপাশের বাতাসে, পরিমণ্ডলে, মানুষের মনে? বৃষ্টি ধরে আসবার পর ছাউনিটা থেকে বের হয়ে আসার সময় শুধু অমলিন হাসলেন। যুগরাজ তখনো বোকা বোকা, বোবা চোখে তার দিকে ভাষা হীন তাকিয়ে থাকে, হতভম্ব। রাস্তায় পা দিয়ে আবার দৌড় শুরু করতে- করতে রঙ্গিত বুঝলেন, বলা উচিত অনুভব করলেন, করতে পারলেন, যুগরাজের কাছে তিনি এক চলমান প্রশ্ন চিহ্ন হয়ে উঠলেন আজ থেকে। সে যাক, রঙ্গিত এখন তার ভোরের দৌড়ের শেষ ধাপ পার করে আনছিলেন। একটু আগে বৃষ্টি হয়ে যাওয়ায়, আকাশের গায়ে যে সরটুকু ছিল, সূর্যের উষ্ণতায় ধীরে ধীরে সেটুকু মুছে যেতে বসেছে। সকালের এই দৌড়ে রঙ্গিতের কাছে এই সবুজ মাখা টাও বড় আকর্ষণ। সবুজ মাখতে আসে সে, এই উদার প্রকৃতির ফুসফুস থেকে। প্রথম ভোরের আলো যত গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয়ে উঠছিল, রবীন্দ্র সরোবরের সবুজ ততই আরো সবুজতর হয়ে উঠছিল। রঙ্গিত দৌড়ের শেষ ধাপ টানতে- টানতে প্রগাঢ়ভাবে যেন মিশে যাচ্ছিলেন সেই সবুজের তীব্রতায়। এই পৃথিবীর কাছে আর কিবা চাইবার, পাবার আছে তার? ভোরের এই নরম সবুজ গ্রহণে কোনওো ভার নেই, তাই রঙ্গিত স্বচ্ছন্দে দৌড়ন। গাছের ডাল থেকে শুকনো বাদামী পাতা ঝরে পড়ছিল পুরনো হয়ে। রঙ্গিত দৌড়ে চলেছিলেন। লেক ক্লাবের কাছে শ্রীময়ীর সঙ্গে দেখা। গাঢ় নীল ট্র্যাকস্যুটে ওকে আজ সত্যিই শ্রীময়ী দেখাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব-র সেরা ছাত্রী। অসম্ভব সুরেলা গানের গলা। সুদর্শনা, তন্বী। এতসব গুণ সত্ত্বেও গত বছরখানেক ধরে শ্রীময়ী মডেলিংয়ে মুজেছে। কয়েকটা র্যাম্প শো-ও করেছে। কিন্তু শ্রীময়ীর প্রবল অ্যাম্বিশান ওকে সর্বদা প্রভোক করে চলেছে -------- শ্রীময়ীকে প্রথম সারির, সেরা মডেলদের একজন, হতেই হবে। সেটা খুব সহজে হয়ে উঠছে না, হয়ে উঠবার কথাও নয়। তাই শ্রীময়ী প্রতিমুহূর্তে এক আক্ষেপে ভোগে যা প্রায়শই তাকে রক্তাক্ত করে তোলে। ---" আমাকে কলকাতার টপ লিস্ট মডেল হয়ে উঠতেই হবে, না হলে আমি বাঁচবো না। "সুন্দরী, সপ্রতিভ, কৃতি ছাত্রী, সুগায়িকা, শ্রীময়ী যখন ওর পাশে দৌড়াতে দৌড়াতে কথাগুলো বলছিল রঙ্গিত লক্ষ্য করেছিলেন ওর ঠোঁটে নিষ্পাপ হাসি কিন্তু চোখ দুটো গনগন করছে, উচ্চাকাঙ্ক্ষার কামনায়। লেখাপড়ায় ভালো, গানের গলা দারুণ, রূপ যেন বর্ষণের মতো ঢালা হয়েছে তার ওপর, তারপরও, এক তীব্র উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে শ্রীময়ীকে। টপ মডেল তাকে হতেই হবে, না হলে জীবন নিরর্থক, মূল্যহীন। রঙ্গিত সেদিন অনুভব করেছিলেন প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যেই বাস করে এক আগ্রাসী সত্তা, মারণ উচ্চাকাঙ্ক্ষা। এখন শ্রীময়ীকে দেখে রঙ্গিত গতি কমিয়ে আনলেন ওর গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওর সঙ্গে দৌড়বেন বলে। শ্রীময়ী খুবই ধীরলয়ে দৌড়াচ্ছে। ওর গলা -মুখ -কপাল জুড়ে বিন বিনে ঘাম। বুকটা হাপরের মতোো ওঠানামা করছে দমের ঘাটতিতে। "আজ কত পাক হল? "উত্তরে শ্রীময়ী কথা বলতে পারছিল না। আঙুল তুলে দেখায়-- দুই। মাত্র? অথচ শ্রীময়ীর ফিটনেস ট্রেনারের নির্দেশ বা পরামর্শ, যেটা শ্রীময়ী নিজেই ওদের জানিয়ে ছিল। শরীরের বাড়তি মেদের সবটুকু ঝরিয়ে তন্বীতর হয়ে উঠতে দৌড়ই সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকরী পদ্ধতি। যত দৌড়াবে তত তন্বী, সুঠাম হবে শরীর। রবীন্দ্র সরোবরটাকে কমপক্ষে পাঁচ পাক দেবার কথা শ্রীময়ীর ট্রেনারের নির্দেশমতো। আজ, এখন, আবারও সেটা রঙ্গিত শ্রীময়ীকে মনে করিয়ে দেবার পর "ইম্পসিবল " দমকা হাওয়ার মত নিঃশ্বাসের সাথে কথাটা বের হয়ে এলো শ্রীময়ীর দু-ঠোঁট ফাঁক হয়ে। রঙ্গিত একটু থমকালেন। কথাটা, ভঙ্গি, ভালো লাগলো না।
"কিন্তু এভাবে চললে কী করে হবে? ট্রেনারের নির্দেশ তো মানতে হবে? " " কী করব বলো? কিছুতেই দম পাইনা। আচ্ছা তুমি এত দম কী করে পাও? " রঙ্গিত উত্তর দিলেন না এবারও। শুধু তার চোখ দুটো বাঙ্ময় হয়ে ওঠে হাসিতে। চারপাশ আলোকিত হয়ে উঠেছে। ঝরা পাতা ঝরে চলেছিল পালক গতিতে। রঙ্গিত যেন দৌড়াচ্ছিলেন সেই রকমই। কোনও ভার নেই। চিন্তার কোনও বহন নেই। নেই কোনও অঙ্ক। এই দলটার মধ্যে একমাত্র তিনিই ছুটছেন অথচ যার সামনে কোনও লক্ষ্য নেই। এই পড়ে থাকা পথ, দুপাশের গাছপালা, আকাশ, এসবগুলোই তাকে ছুটিয়ে নিয়ে বেড়ায়। তিনি ছুটে চলেন নিজের ভবিষ্যতের দিকে। সবুজ মাখার এক অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণ, দুর্নিবার নেশায় রঙ্গিত ছুটে চলেন প্রতিটি কাক না-ডাকা ভোরে। মাদকের থেকেও অপ্রতিরোধ্য সেই আকর্ষণ নেশা যাকে কিছুতেই এড়ানো যায় না। "কি হল? বলো না কাকু। " শ্রীময়ী দাঁড়িয়ে পড়েছে। রঙ্গিতও দাঁড়িয়ে পড়লেন। শ্রীময়ীর চোখে সরাসরি, স্পষ্ট, চোখ রাখলেন। সেখানে এখনো নির্মলতার ঘ্রাণ। অথচ সেও আটকে যাচ্ছে অনতিক্রম্য এই বুবি ট্র্যাপে। লুকোনওো চোরাবালিতে। রঙ্গিত ভাবলেন শ্রীময়ীকে হয়তো বলা যায়। কিন্তু বললেও কি পারবেন ওকে ওই আবর্তে তলিয়ে যাওয়া থেকে বাঁচাতে? রঙ্গিত নিশ্চিত নন। তবু তিনি বললেন। বুক ভরে সবুজের ঘ্রাণ নিতে নিতে শ্রীময়ীর চোখের উপর দৃষ্টিকে ঘনীভূত, প্রগাঢ় করলেন ---- " আমার তো তোমার মত টপ-এ যাবার পাহাড়ের শীর্ষ ছোঁবার কঠিন পথ সামনে নেই, , তাই হয়তো আমি পারি…….. " কথাটা শোনবার সঙ্গে সঙ্গে শ্রীময়ীর দুচোখে অবিশ্বাস স্ফুরিত হতে দেখলেন তিনি। কিন্তু কয়েক মুহূর্ত। শিক্ষিতা, বুদ্ধিমতী, আধুনিকা, শ্রীময়ী হয়তো ক্রমে বুঝে নিতে পারে রঙ্গিতের কথাগুলোর অন্তর্নিহিত গূঢ় অর্থ, ইঙ্গিত। নিমেষে ওর দুচোখ মলিন হয়ে ওঠে তীব্র বিষাদচ্ছায়ায়। রঙ্গিত চোখ সরিয়ে নিলেন। গভীর একটা শ্বাস উঠে এলো তার বুকের গহন থেকে। সামনের কোনও একটা গাছ থেকে ঝরা পাতা নেমে এলো সাবলীল গতিতে। রঙ্গিত আবার দৌড়তে শুরু করলেন। শ্রীময়ীর দিকে ফিরে তাকালেনও না। তিনি নিশ্চিত, উজ্জ্বল মেয়েটির চোখে তিনি এখন আরও একটা ধ্বংসস্তূপের প্রতিবিম্ব দেখতে পাবেন, পাবেনই।